একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে যা দেখলাম : ছাগলনাইয়া পৌর ও ইউপি নির্বাচন

sajib-chhagalnaiyaঅআতংঙ্ক কেন্দ্র দখল বহিরাগত সন্ত্রাসী আর বোমা বিষ্ফোরনের মধ্য দিয়ে শেষ হল ভোটার বিহীন ছাগলনাইয়া পৌর ও ইউপি নির্বাচন

গত ২৫ মে ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাচন ৯টি ওয়ার্ডে ১০ কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাই আগের দিন থেকেই শুরু হল সরকারী ও বেসরকারী প্রস্তুতি। সরকারী প্রস্তুুতির মাঝে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য যত প্রস্তুতি তা গ্রহন করছে নির্বাচন অফিস। অপর দিকে প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার জন্য বেসরকারী ভাবেও প্রস্তুতি নেয়া হয়। এর মাঝে বহিরাগত মেহমান (সন্ত্রাসী) আসতে শুরু করে আগের দিন পরন্ত বিকেলের সাথে সাথে। কেউ আসছে ভিআইপি ভাবে মাইক্রোবাসে আবার কেউ আসছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সাযোগে। ফুলগাজী, পরশুরাম, দাগনভূঁঞাসহ ফেনীর বাইরে থেকে বহু মেহমান (সন্ত্রাসী) আসতে থাকে। মেহমানদের বরণ করতে আবার কেউ কেউ ব্যস্ত। যাই হোক যেকোনভাবে মেহমান এসেছে। এবার মেহমানদের রাত যাপনের জন্য নানা প্রস্তুতি চলে। তাদের জন্য কোরমা পোলাও বিরিয়ানী আবার সাদা ভাত আয়োজনের শেষ নেই। এরপর তাদের ঘুমানোর জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে কারো কারো ঘরে আবার কাচারিতে আবার কাউকে ঘোয়াল (গরু) ঘরে ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখার চেষ্ঠা করেন। এদিকে সরকারী বাহীনিকে (পুলিশ) ও নানাভাবে জামাই আদরের শেষ নেই। কাউকে ভাত খাওয়াচ্ছে আবার কাউকে সম্মানি (টাকা) ও দিচ্ছে। কারণ আগামীকাল নির্বাচন। নির্বাচন যাই হোক-যেভাবে হোক শুরু হল ককটেল বোমার বিষ্ফোরন। এগুলোর বিকট আওয়াজে পৌরবাসিকে ঘুমাতেও একটু সমস্যা হচ্ছে। এরপরও কিছু করার নেই। এসব কিছু দেখলাম রাতে পর্যবেক্ষনের অংশ হিসেবে। অবশেষে রাত দেড়টার দিকে বাসায় ঘুমাতে গেলাম। তখনও ককটেল আর বোমার বিকট শব্দে নিজেরও ঘুমাতে একটু কষ্ট হচ্ছে। যাই হোক কোন রকমে ঘুম আসলো। আবার ভোর ৫ টায় ঘুম ভেঙ্গে গেল, দাঁত ব্রাশ করে, গোসল করে নির্বাচন পর্যবেক্ষনে যাবো হঠাৎ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখি কিছু বহিরাগত মেহমান (সন্ত্রাসী)। সবার হাতে ১টা করে কিরিচ, লাঠি আর ককটেল তো ফুটছে। যাইহোক সবকিছু সেরে রেডি হলাম। হঠাৎ বৃষ্টি এসে গেল কি আর করব বাসায় বসে আছি। ফোন আসল পূর্ব ছাগলনাইয়া কেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রার্থীদের এজেন্ট ছাড়া সব এজেন্টদের সন্ত্রাসীরা বের করে দিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। ২০-৩০ মিনিট পর বৃষ্টি বন্ধ হল। মটর সাইকেলটা নিয়ে পর্যবেক্ষনে বের হলাম। প্রথমে গেলাম মৌলভী সামছুল করিম কলেজে গিয়ে দেখলাম ভোট শুরু হয়েছে। তবে ভোটারের উপস্থিতি নেই কিন্তু স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে ভোট দেয়া (সিল মারা) ব্যালট পেপার দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সদস্যরাও অসহায়। কিছু না বুঝতে চলে গেলাম দক্ষিন যশপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমাদের উপস্থিতি দেখে পরিস্থিতি একটু শান্ত। আগে বিক্ষিপ্ত হলেও তখন কিছু বহিরাগত লোক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা তাক করতেই সবাই শুধু মুখ লুকাচ্ছে। এদিকে বাহিরে থেকে ও ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ কানে আসছে। যাই হোক একটু পরে সংকার দলীয় একপ্রার্থীর মেহমান (সন্ত্রাসী) বলল ভাই একটু সমস্যা হচ্ছে চলে গেলে ভাল হবে। কি আর করব চলে আসলাম। সেখান থেকে গেলাম মির্জার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেখানে গিয়ে দেখলাম কোন ভোটার নেই কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করে ২০-৩০ জন লাইনে দাঁড়িয়ে আছে একটু সন্দেহ হল জিজ্ঞাসা করলাম ভাই আপনি কি ভোটার? সে উত্তর দিল হ্যা। বললাম আইডি নাম্বার কত? দেখি আইডি কার্ডটা। বিরবির করে একে একে লাইনের সব মেহমান (সন্ত্রাসী) চলে গেল। ফোন আসল রিসিভ করে দেখলাম সতর ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী খালেদ মোশারফ সমর চৌধুরীর, তিনি বলেন তার সকল এজেন্টদের বের করে দিয়েছে, মারধর করেছে সরকার দলীয়রা। আবার অপর কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ নুরুল আলম খান ও তার ছেলেকে মারধর করেছে সরকার দলীয়রা এসময় সংরক্ষিত আসনে মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মমতাজ বেগম ও তার স্বামীকে ও মারধরের কথা শুনা যায়। এসব কথাগুলো শুনলাম দক্ষিন সতর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে। সেখান থেকে গেলাম দক্ষিন সতর নদীর কূল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেখানে গিয়ে দেখি কোন ভোটার নেই। মাঠে কিছু পুলিশ সদস্য ছাড়া আর কেউ নেই এরপর ও দেখলাম ব্যালট বাক্স ভর্তি। এরপর গেলাম উত্তর পানুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানের বুথ গুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম কেন জানি একটু সন্দেহ হচ্ছে। কোমর থেকে ক্যামেরা বের করে ভিডিও করতেই এক লোক হাউ মাউ শুরু করে আমার দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে আসতে লাগল উপস্থিত এজেন্ট তাকে ধরল কি ব্যাপার আপনি সাংবাদিককের উপর এত ক্ষিপ্ত হচ্ছেন কেন? কি সমস্যা আপনার? পরে জানতে পারলাম ঐ মেহমান (সন্ত্রাসী) ফেনীর এক ইউপি চেয়ারম্যান জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করছিলো। সেখান থেকে বের হয়ে ছাগলনাইয়া শিশু পরিবার কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পৌরসভা গেইটের সামনে পৌঁছা মাত্র লক্ষ্য করলাম কিছু র‌্যাবের সদস্য ও বিজিবি দাঁড়িয়ে আছে। আবার দেখি সময় টিভির প্রতিনিধি আতিয়ার সজল ভাই, ফেনী বার্তার এমরান ভাইসহ আরো কিছু টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রের কর্মীরা অপেক্ষা করছে। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম নির্বাচনে সহিংসতার জন্য সুদুঢ় ফুলগাজী থেকে এসেছিলেন ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম মজুমদার। তিনিসহ বেশকিছু বড় মাপের নেতা কর্মীরা পৌরশহরের গোল্ডেন স্পুন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকের চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং দীর্ঘ ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখার পর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীমকেসহ কয়েকজন র‌্যাব সদস্য নিচে নেমে আসে। র‌্যাব সদস্যরা গাড়ীতে উঠে আর চেয়ারম্যান সাহেব দৌড়ে গিয়ে অন্য দিকে চলে যায়। এরপর পর বেশ কিছুক্ষণ র‌্যাব সদস্যরা ঐ চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য মিডিয়া কর্মীরা সেখান থেকে চলে গেলে আমি ও চলে যাই। সেখান থেকে সর্বশেষ গেলাম ছাগলনাইয়া সরকারী শিশু পরিবার কেন্দ্রে সেখানে গিয়ে ও কিছু আলামত দেখতে পাই। সেখানকার প্রিজাইডিং অফিসার মো: ছায়েদুল হকের কাছ থেকে কিছু কথা শুনে নিজে নিজে যা কিছু বুঝার বুঝলাম। ঐ কর্মকর্তা থেকে ভোট কাস্টের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ১৮ শত ভোট কাষ্ট হয়েছে। তখন সময় সকাল ১১টা তখন নিজে নিজে হেসে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। এছিল ছাগলনাইয়া পৌরসভার নির্বাচনের হালচাল।
এদিকে গত ৭মে শেষ হয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন রাধারনগর মহামায়া, পাঠাননগর, শুভপুর ও ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সেটি ও প্রায় পৌর নির্বাচনের মত একই কায়দায় হয়েছিল। ভোর ৬ টার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম হঠাৎ কল আসল ফোন রিসিভ করতেই হাউ মাউ কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর ওয়ার্ডে সরকার দলীয় মেম্বার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন পলাশ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে অপর প্রার্থী শাহজাহানের বাড়ীতে গিয়ে শাহজাহান ও তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের পায়ে গুলি করে এসময় শাহজাহানের ভাই জসিম উদ্দিন ও প্রতিবেশী আমান উল্যার পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মকভাবে আহত করে। তাদেরকে একটি সিএনজি চালিত অটো রিক্সা দিয়ে সকাল ৭ টার দিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে আনা হয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার ও বিজিবি গোয়েন্দা সদস্যরা দেখেন ও খোঁজ খবর নেন। তখন শাহজাহান ও তার স্ত্রীর পায়ে বুলেট ঢুকে থাকতে দেখা যায়। অন্যান্যদের খুব রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। সেখান থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে চম্পকনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়। খুব শান্তি পূর্ণভাবে বিপুল ভোটারের উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ চলছে তবে সেখানে কেন্দ্রের পাশে বিজিবি ক্যা¤প থাকায় সন্ত্রাসীরা কোন আপৃতীকর ঘটনা ঘটাতে পারেনি। সেখানে থেকে জাফর ইমাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেখানে ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ও কিছু কথা শুনা যায়। সেখান থেকে মন্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহনের দূশ্য দেখতে পাই। সেখান থেকে করৈয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি কিছু মেহমান (সন্ত্রাসী) জালভোট দেয়ার চেষ্টা কালে বিজিবি হাতে নাতে ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে বসিয়ে রাখে। সেখান থেকে ঘোপাল নিজকুঞ্জুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পাই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আজিজুল হকের উপর গুলি করেছে অপর প্রার্থী আজিজুল হক মানিকের সমর্থকরা। আজিজুল হক অল্পের জন্য প্রাণে বেচেঁ যান। এ ব্যাপারে আজিজুল হকের বোন তাহিরুল নেছা, দেল আফরোজা ও হাসিনা আক্তার সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এদিকে মহামায় ইউয়িনের ৩নং ওয়ার্ডে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মেম্বার পদপ্রার্থী আবু সৈয়দের উপর গুলি চালায় আবু সৈয়দ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলে ও তার সমর্থক মোঃ মূসা, জাহাঙ্গির ও আব্দুর রউফ আহত হয়। তাদের আশংঙ্কা জনক অবস্থায় ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর ৩ টার দিকে পাঠানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা হয় ফেনীর পুলিশ সুপার রেজাউল হক পিপিএমের সাথে। তার সাথে কিছুক্ষন আলাপ আলোচনার পর বুথ গুলো পরিদর্শনে ঢুকলাম। পরিদর্শন শেষে বের হয়ে ও দেখতে পেলাম এস সি সাহেব দাড়িয়ে আছেন। কিছুক্ষনপর জানতে পারলাম সরকার দলীয় এক মেম্বার প্রার্থী ব্যালট পেপারসহ বাক্স কেন্দ্র থেকে নিয়ে গিয়ে পুঁেড় ফেলে। এনিয়ে এসপি ও রির্টানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান মজুমদার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠক বসে। অবশ্য ঐ কেন্দ্র পরবর্তীতে স্থগিত ঘোষনা করে। রাধানগর ইউনিয়নের নিজপানুয়া কেন্দ্রে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের পক্ষে ভোট চুরির চেষ্টা করলে এলাকাবাসী মিলে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করলে সেখানে অপৃতীকর কিছু করতে পারেনি সন্ত্রাসীরা। এভাবেই সম্পুন্ন হয়েছে ছাগলনাইয়ার ৫ ইউনিয়ন পরিষদ ও ১ পৌরসভা নির্বাচন।

এম নিজাম উদ্দিন মজুমদার সজিব
প্রতিনিধি
মোহনা টেলিভিশন
ফেনী-১
ও বিশেষ প্রতিবেদক
ফেনী নিউজ বিডি

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরাম,ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর ৩টি স্থানে ভাঙ্গনে বিস্তৃর্ন এলাকা প্লাবিত
  • পরশুরাম উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল
  • খন্ডল হাই বাজার বনিক সমিতির আহবায়ক কমিটি গঠন
  • পরশুরাম থানার পুুলিশ মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারকে আটক করে
  • পরশুরামে ১০ বছর পর বীমার টাকার জন্য গেলে প্রাবাসীর স্ত্রীকে হয়রানী অভিযোগ
  • পরশুরামে ভোক্তা অধিকারের ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
  • ইয়ুথ জার্নালিস্টস্ ফোরাম ফেনী শাখার ইফতার ও দোয়া মাহফিল
  • পরশুরামে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ব আটক
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print