কবি ও সাহিত্যিক বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ

 আবু ইউসুফ মিন্টু-
পরশুরাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুথুমা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
(জন্ম: ১৯০৮ সালের ১৯ অক্টোবর – মৃত্যু: ১০ এপ্রিল ১৯৬৪) তিনি ছিলেন এ দেশের নারী মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবিকা ৷ মুসলমান সমাজে নারী শিক্ষা প্রসার ও অবরোধপ্রথা রহিত করার জন্য যাঁরা জীবন উত্সর্গ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ছাত্রী হল শামসুন নাহার হল তার নামে নামকরণ করা হয়।
তার নামে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামছুন নাহার হলের নাম করন করা হয়েছে।
শামসুন নাহার এর বাবা মৌলভী মুহাম্মদ নুরুল্লাহ চৌধুরী এবং মা আছিয়া খাতুন চৌধুরী । তিনি ছিলেন পিতৃহীনা। চট্টগ্রামের তামাকুমন্ডিস্থ নানা খান বাহাদুর আবদুল আজিজের বাড়িতে মা ও ভাই হবীবুল্লাহ বাহারের সাথে বড় হন। তিনি লেখাপড়া করেন ডাক্তার খাস্তগীর স্কুলে। তার স্বামী ছিলেন ডাঃ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ১৯৩২ সালে শামসুন নাহার বিএ পাশ করেন, তখন বেগম রোকেয়া এ উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করেন। দশবছর পর ১৯৪২ সালের তিনি এমএ পাশ করেন

শামসুন নাহার কিছুদিন নিখিল বঙ্গ মুসলিম মহিলা সমিতির সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্য সফর করেন। কলম্বোতে ইন্টারন্যাশন্যাল কাউন্সিল অব ওমেন-এ তিনি একটি দলের নেতৃত্ব দেন। সমগ্র এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তিনি ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেন্ডশিপ অর্গানাইজেশনে যোগ দেন। ১৯৬২ তে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শামসুন নাহার মাহমুদ ও তার ভাই হবীবুল্লাহ বাহারের খুব ভাল সম্পর্ক ছিল।কলকাতা থাকাকালীন শামসুন নাহার কবি কর্তৃক অনুপ্রানিত হয়ে লেখা শুরু করেন, তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়, আঙ্গুর পত্রিকায়। আইএ পড়বার সময় থেকেই তিনি নওরোজ ও আত্মশক্তি পত্রিকার নারী বিষয়ক অংশের সম্পাদকের কাজ করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম তার সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থ “বাহার ও নাহার”-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন

১৯৬৪ সালের ১০ এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৮১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে সমাজসেবার জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার প্রদান করেন,
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বেগম শামসুন নাহার মাহমুদকে মরণোত্তর ,’বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদান করা হয়।

=তথ্য সংগ্রহে- আবু ইউসুফ মিন্টু

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরামের জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর ব্যবহার অনুপোযোগী
  • মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে পিকনিক-২০১৭
  • মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে পিকনিক-২০১৭
  • কবি ও সাহিত্যিক বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ
  • পরশুরামে স্কুল কলেজে জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষন কার্যক্রমের উদ্ভোদন
  • পরশুরামে হিন্দু বৈদ্য খ্রীষ্টান ঐক্য ও পূজা উদযাপন পরিষদ সম্মেলন অনুষ্টিত
  • মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া গাড়ী ভাংচুর
  • জাতীয় ইমাম সমিতি পরশুরাম শাখার উদ্যোগে মাওলানা আবদুর রউফের স্মরণ সভা
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print