চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনির শেকড় কোথায়

২১ এপ্রিল ২০১৮
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নুরুল আজিম রনির শেকড় যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের হাতে বলে জানা গেছে। অভিযোগ আছে, হেলাল আকবর বাবর অস্ত্র দিয়েই বিভিন্ন সময় রনিকে সহযোগিতা করেন। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধরের রেশ না কাটতেই নগরীর একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রনিকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।

নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্র নুরুল আজিম রনি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন। এর আগে তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আরশেদুল আলম বাচ্চুর সমর্থক। মূলত বাচ্চুর চেষ্টাতেই রনি নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। তারা দুজনই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রনিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, রনির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। খুব শিগগির আমরা নতুন কাউকে এ পদের দায়িত্ব দেব।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে গতানুগতিক ধারার ছাত্ররাজনীতি শুরু করলেও চট্টগ্রাম কলেজ ও পার্শ্ববর্তী হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের কর্তৃত্ব ছাত্রশিবিরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন নুরুল আজিম রনি। কিন্তু অতিমাত্রায় প্রচার পেয়ে এক সময় বিতর্কিত ও ঔদ্ধ্যতপূর্ণ ভূমিকার কারণে খুব দ্রুত শীর্ষ থেকে শূন্যে নামেন তিনি। নিজ দলের ভেতরে-বাইরে তার অসংখ্য প্রতিপক্ষ তৈরি হয়ে যায়। এক সময় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীনের সঙ্গেও তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। কোনো কিছুকেই তিনি আর গা করছিলেন না। এরই মধ্যে ছাত্রদের ফি কমানোর আন্দোলনে জড়িয়ে একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ পায় একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালককে মারধরের ভিডিও। পরিচালক রাশেদ মিয়া আমাদের সময়কে বলেন, ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রনি ও তার সহযোগীরা আমাকে কয়েক দফায় মারধর করেন। রাশেদ গত বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ দেন। রাতে একটি জিডিও করেন বলে জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে নুরুল আজিম রনি রাজনীতিতে অগ্রসর হলেও তাকে পেছন থেকে নানাভাবে সহযোগিতা দিতে থাকেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর। রেলওয়ে সিআরবি কার্যালয়ের সামনে জোড়া খুনের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি বাবর মূলত রেলওয়ের সব দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করেন। সেখান থেকে তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে যান। আ জ ম নাছিরউদ্দীন ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৫ সালে মেয়র নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়। অনেক প্রবীণ নেতা ভবিষ্যৎ রাজনীতির বিষয় মাথায় রেখে মহিউদ্দিন চৌধুরীর পক্ষ ত্যাগ করে আ জ ম নাছিরের সঙ্গে চলে আসতে শুরু করেন। এ অবস্থায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীও নতুন করে রাজনীতিতে কলকাঠি নাড়া শুরু করেন। দীর্ঘসময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও শেষ জীবনে এসে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত চট্টগ্রাম কলেজ ও পার্শ্ববর্তী হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজের কর্তৃত্ব নিজের করে নেন। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওই কর্তৃত্ব নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। কলেজের কর্তৃত্ব নিয়ে পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে সংঘাতে জড়ান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির অনুসারী যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনু। এ নিয়ে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। কিন্তু রনির সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে পিছু হটে টিনু বাহিনী। অভিযোগ ওঠে, হেলাল আকবর বাবর অস্ত্র দিয়েই সে সময় রনিকে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় সন্ত্রাসী আবদুর রউফও আ জ ম নাছিরের পক্ষ হয়ে এ কলেজ দুটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু রনি সেখানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান। তবে এসব ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো শীর্ষ নেতার কাছে আস্কারা পেয়ে রনিও ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠতে থাকেন। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সময়ে চট্টগ্রাম শহরের বিলবোর্ড ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ রনি ও তার সহযোগীদের হাতে চলে যায়। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীন দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেন। এতে রনি ও তার সহযোগীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এতে মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দীনের সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তুঙ্গে ওঠে।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
  • চট্রগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা
  • মহান বিজয় দিবসে উপলক্ষে “এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ” এর পক্ষ থেকে শহীদের স্বরণে পুষ্পমাল্য অর্পন
  • বিপিএলের উৎসবে ভালোভাবেই মেতেছে চট্টগ্রামবাসী
  • চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আবির হত্যা মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত
  • চট্টগ্রামে এক সঙ্গে ৬ সন্তান জন্ম দিলেন এক নারী
  • সীতাকুণ্ডে বাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশত
  • রাঙামাটির রাজসথলী থেকে আরাকান আর্মির শীর্ষ নেতা ডা.রেমাংসুকে গ্রেফতার
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print