দুনিয়া-আখেরাতের মুক্তি রয়েছে পবিত্র কুরআনে

দুনিয়া-আখেরাতের মুক্তি রয়েছে পবিত্র কুরআনে

quran&worldবাংলাদেশের রাজনীতির কথা শুনলেই অনেকের মনে যেন একটা ঘৃণার ভাব ফুটে ওঠে। আবার অনেকে বলে ফেলে রাজনীতি কি ভালো মানুষের কাজ, রাজনীতি-টিতি বুঝি না, রাজনীতি কি শান্তি দেবে, রাজনীতির ধারেকাছেও আমরা নেই। একটানা কথাগুলো বলে ফেলে। দেশের বেশির ভাগ আলেম, ইমাম, মুহাদ্দিস, মুফতি, হাফেজ, কারী এবং হাজী সাহেবদেরও বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে যে, রাজনীতি করা খারাপ লোকদের কাজ। আমরা ভালো লোকগুলো ইবাদত বন্দেগি করে যাবো।

এ ছাড়াও আমাদের দেশের কিছু কিছু পত্রপত্রিকা, বামপন্থী রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলে থাকেন যে, ধর্ম এবং রাজনীতি আলাদা ব্যাপার। ধর্মকে রাজনীতির সাথে জড়িত করা যাবে না। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না।
অথচ আমাদের দেশে বোবা, পাগল, শিশু এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক যুবক ছাড়া আর সবাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত আছে। নির্বাচনের সময় যে দলকে ভোট দেয় সে ব্যক্তি সেই দলের সাথে জড়িত আছে। এ সত্য কথাটি কেউই অস্বীকার করতে পারবে না।

যা হোক রাজনীতির ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কারণে আজকাল আমাদের মুসলিম সমাজ বা দেশে ইসলামবিরোধী দলের নেতৃত্ব ও শাসন অহরহ চলছে। আর মুসলমানরা সহজভাবে তাদের নেতৃত্ব ও শাসনকে মেনে নিচ্ছে। আমরা যারা বলি রাজনীতি ভালো মানুষের কাজ নয়। অথচ নির্বাচনের সময় ওই ভালো মানুষগুলো ইসলামবিরোধী দলের সাথে জড়িত হয়ে দেশ পরিচালনার জন্য এমন সব দলের নেতা-নেত্রী নির্বাচন করেন, যাদের দলের মূলনীতি হলো পুঁজিবাদ, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করা। এসব ইসলামবিরোধী দলের মতবাদ দ্বারা আমাদের মুসলিম বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার কারণে দেশের সর্বক্ষেত্রে ইসলামকে ধ্বংস করার যে ভয়াবহ অবস্থা চলছে তা কি আমরা কখনো উপলব্ধি করার চেষ্টা করি?

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র সমাজের নেতৃত্ব ও শাসন ক্ষমতা আমরা যাদের হাতে তুলে দিচ্ছি, তারাই ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানকে প্রত্যাখ্যান ও উপেক্ষা করে মুসলিম সমাজ বা দেশকে ইসলামবিরোধী সমাজ ও দেশে পরিণত করছে। আর আমরা মুসলিম হয়ে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত বা অনুসারী দল হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। আমাদের দ্বারা কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না। আমরা সহজ সরলভাবে তাদের আনুগত্য করে যাচ্ছি। অথচ মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে ইসলামবিরোধী নেতৃত্বের আনুগত্য করতে নিষেধ করেছেন।

এ বিষয়ে আল কুরআনের নিষেধাজ্ঞা : ‘তোমরা খোদায়ী বিধানের সীমালঙ্ঘনকারীদের আনুগত্য করো না, যারা (শিরক-কুফর ইত্যাদি) অনর্থের সৃষ্টি করে আর সংশোধনের ব্যবস্থা করে না।’ (সূরা-শু-আরা : ১৫১-১৫২)  এভাবে মুসলিম সমাজে ইসলামবিরোধী নেতৃত্ব ও শাসনকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। ইসলামি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, আর ইসলামি নেতৃত্বের আনুগত্যের অপরিহার্যতা প্রমাণিত হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর সরাসরি দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে।

আল কুরআনের নির্দেশ হলো : ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ তায়ালার, রাসূলুল্লাহ সা:-এর, আর তোমাদের মধ্য থেকে শরিয়ত অনুযায়ী হুকুমাত পরিচালনার অধিকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের। তোমরা যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধে পতিত হও তবে তোমরা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সা:-এর তথা কুরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে ওই বিষয়ের সঠিক ফয়সালা নির্ধারণ করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখ।’ (সূরা নিসা ৫৯ নম্বর আয়াত)  রাসূল সা: বলেছেন : ‘স্রষ্টার নাফরমানি করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না।’

হাদিসে আরো উল্লেখ আছে যে, ‘আল্লাহ ও রসূলের নাফরমানির ক্ষেত্রে কোনো আনুগত্য নেই, আনুগত্য করতে হবে শুধুমাত্র মারূফ বা বৈধ ও সৎকাজে।’ (বুখারি ও মুসলিম) ইসলামি নেতৃত্ব ছাড়া মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধানের প্রতিষ্ঠা করা কখনো সম্ভব নয়। এ জন্য কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক ইসলামি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নামাজ রোজার মতো ফরজ।

ইসলামি রাজনীতির প্রথম ও প্রধান উৎস হচ্ছে আল কুরআন। দ্বিতীয় হচ্ছে রাসূল সা:-এর সঠিক সুন্নাহ বা পথ। রাসূল সা:-এর সঠিক সুন্নাহ বা পথ অনুসারে আল কুরআনের রাজনীতিতে এ দেশের বেশির ভাগ মুসলমান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার কারণে ইসলামবিরোধী নেতারা রাষ্ট্রের পরিচালক হয়ে ইসলামকে ধ্বংস করছে আর বলছে ইসলামের নামে রাজনীতি করা যাবে না। ইসলাম এবং রাজনীতি আলাদা ব্যাপার।
অথচ জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ পাকের পরিপূর্ণ ইবাদতের দায়িত্ব পালনের জন্য ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতেই হবে। এ দায়িত্ব এড়িয়ে চলা মুসলমানদের জন্য পরিষ্কার মুনাফেকি। শরিয়তের এমন অনেকগুলো আইন বিধিান রয়েছে যা কার্যকরি করতে হলে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, যে পর্যন্ত ইসলামি দলের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হবে, সে পর্যন্ত আমরা আল্লাহ পাকের কোনো ইবাদতই পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে পারব না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘তারা এমন ব্যক্তি তাদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে শাসন ক্ষমতা দান করি তাহলে তারা নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখবে।’ (সূরা হজ : ৪১)
যে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদায় মর্যাদাবান করে সৃষ্টি করেছেন, মাটির মানুষকে আল্লাহর নির্দেশে নুরের তৈরি ফেরেশতারা সিজদা করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।’ (সূরা বনি ইসরাঈল ৭০ নম্বর আয়াত)
মানুষ হলো আল্লাহ পাকের খলিফা বা প্রতিনিধি। আল্লাহ পাক মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করে তাদেরকে চলার মতো কোনো বিধান না দিয়ে এমনিভাবে ছেড়ে দিয়েছেন? অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘রমজানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হেদায়াত এবং চলার জন্য গাইডলাইন বা সংবিধান, যা সত্য সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫) আল্লাহ পাকের নির্দেশ হলো : ‘সাবধান মনে রেখ, সৃষ্টি তাঁরই বিধান ও তাঁরই চলবে।’ (সূরা আল আরাফ: ৫৪)

সম্মানিত পাঠকেরা আল কুরআন এসেছে মানব জাতির সম্মান এবং মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে আল্লাহ পাকের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা। আল কুরআনের পরিপূর্ণ বিধানকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মানুষ এ দুনিয়াতে পাবে শান্তি আর পরকালে পাবে আল্লাহ পাকের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি।
অথচ আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে কুরআনের সহজ সহজ কিছু অংশ ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী মানা হচ্ছে। কুরআনের ছয় হাজার ৬৬৬টি আয়াতের মধ্যে পাঁচ বা ছয় শত আয়াত মক্কা মুআজ্জমায় নাজিল হয়েছে। যার মধ্যে আছে তাওহিদ, রিসালাত, আখিরাত, জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ ও আকিদা ইত্যাদি সম্পর্কে। আর মদিনা মুনাওয়ারায় নাজিলকৃত ছয় হাজারেরও বেশি আয়াত, যার মধ্যে রয়েছে ইবাদাত, আচার-ব্যবহার, হালাল-হারাম, সমাজজীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনব্যবস্থা, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমরনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি।

আমাদের দেশে প্রায় তিন লাখের বেশি মসজিদ আছে। মসজিদের সম্মানিত ইমামরা জুমাতে এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে মক্কায় নাজিলকৃত আয়াতগুলোর ওপর আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু মদিনায় নাজিলকৃত ছয় হাজারেরও বেশি আয়াতের ওপর আলোচনা হচ্ছে না। যার কারণে আমাদের দেশের সাধারণ বা অল্প শিক্ষিত লোকেরা এবং অন্যান্য বিষয়ে উচ্চ শিক্ষিতরা ইসলামি রাজনীতি, ইসলামি রাষ্ট্র, ইসলামি আইনকানুন, ইসলামি অর্থনীতি, ইসলামি সমাজ ইত্যাদি কী এবং কেন প্রয়োজন সে ব্যাপারে তারা কোনো সঠিক ধারণাও পাচ্ছে না। এমনকি নামাজ-রোজা ব্যতীত অন্য কিছু করাকেও ইবাদত মনে করে না। ধর্মীয় জ্ঞান কম থাকার কারণে ইমাম সাহেবেরা যা বলেন, তাই তারা বিশ্বাস করেন।

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছ এবং অন্য অংশের সাথে কুফরি করছ? তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারাই এমনটি করবে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে অপমান, অপদস্ত, লাঞ্ছিত ও পর্যুদস্ত হবে এবং আখেরাতে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হবে। তোমাদের কর্মকাণ্ড থেকে আল্লাহ বেখবর নন।’ (সূরা বাকারা : ৮৫)

কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জনকারীরা ইসলামবিরোধীদের ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে কুরআনের মদিনায় নাজিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ না করে যদি গোপন করা হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে বলেন : ‘যারা আমার অবতীর্ণ উজ্জ্বল শিক্ষাবলী ও বিধানগুলো গোপন করে, অথচ সমগ্র মানবতাকে পথের সন্ধান দেয়ার জন্য আমি সেগুলো আমার কিতাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন এবং সব অভিশাপ বর্ষণকারীরাও তাদের ওপর অভিশাপ বর্ষণ করে।’ (সূরা বাকারা ঃ ১৫৯)

অথচ আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে বলেন : ‘আর হে নবী, যারা এ কিতাবের ওপর ঈমান আনবে এবং (এর বিধান অনুযায়ী) নিজেদের কার্যাবলী পরিচালিত করবে তাদেরকে এ মর্মে সুখবর দাও যে, তাদের জন্য এমন সব বাগান বা জান্নাত আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা।’ (সূরা বাকারা ২৫ নম্বর আয়াত)

সুতরাং এ দুনিয়াতে শান্তি এবং পরকালে আল্লাহ তায়ালার কঠিন আজাব থেকে বাঁচতে হলে কুরআনের আইনের বিকল্প আর কিছুই নেই। যারা নিজেদের ধন-সম্পদ এবং জান-প্রাণ দিয়ে কুরআনের আইনকে জমিনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কঠোর চেষ্টা সাধনা করেন, তাদেরকে কুরআনের অনেক সূরাতে আল্লাহ পাকের সাহায্যকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সূরা আল হাশরের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক তাদের ব্যাপারে বলেন : ‘এসব লোক চায় আল্লাহর মেহেরবাণি এবং সন্তুষ্টি। আর তারা প্রস্তুত থাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য। তারাই হলো সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ লোক।’

সম্মানিত পাঠকেরা, আল কুরআনের আইনকে বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন দ্বারা আমাদের মুসলিম রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়ার কারণে আমাদের দেশে কি ভয়াবহ অবস্থা চলছে? এখানে চলছে মানুষের প্রতি মানুষের চরম অবহেলা, অবজ্ঞা, অকারণে হত্যা করা হচ্ছে মানুষকে, মানুষের ইজ্জত-আবরু ও ধন সম্পদ লুণ্ঠন করা হচ্ছে। অমানুষিক নির্যাতন করে শিশুদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। অসহায় নারী, শিশু মেয়েরা এমনকি স্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ধর্ষিত হচ্ছে। ধর্ষণ একাকীও করা হচ্ছে এবং দলবদ্ধভাবেও করা হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে দেয়া হচ্ছে।
মুসলিম দেশে মুসলিম যুবতী মেয়েদেরকে দিয়ে করানো হচ্ছে পণ্যদ্রব্যের প্রচার। বেশির ভাগ পণ্য-দ্রব্যের লেবেল বা প্যাকেটে যুবতী মেয়েদের ছবি। রাস্তাঘাটের বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে যুবতী মেয়েদের বড় বড় ছবি দিয়ে পণ্যদ্রব্যের প্রদর্শনী দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়াও টিভিতে কিভাবে ছেলেমেয়েদেরকে দিয়ে একত্রে পণ্যদ্রব্যের প্রচার করা হচ্ছে, তা সবার জানা। এখন আবার নতুনভাবে চলছে বড় বড় শহরগুলোতে বড় বড় বিল-বোর্ড স্থাপন করে মেয়েদেরকে দিয়ে পণ্যদ্রব্যের প্রচার।

বাংলাদেশের প্রতিটি ছোট-বড় শহরের কাপড়ের দোকানগুলোতে যুবতী মেয়েদের এবং পুরুষদের মূর্তি বানিয়ে সুন্দর সুন্দর সাজে সাজিয়ে রেখেছে। অনেক মুসলমানদের ঘরে ছোট ছোট মূর্তি দিয়ে শোকেস সাজিয়ে রেখেছে। আমাদের দেশটি যেন মূর্তির দেশ এবং যুবতী মেয়েদের প্রদর্শনীর দেশে পরিণত হয়েছে।

আমাদের মুসলমানদের দাবি হলো, আমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল সা:-এর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বা অনুসারী দল। আরো দাবি হলো আমরা হজরত ইব্রাহীম আ:-এর মিল্লাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ হজরত ইব্রাহীম আ:-এর মিল্লাত ছিল মূর্তি ভাঙা। যার কারণে তাকে নমরুদের কঠিন আগুনের পরীক্ষায় যেতে হয়েছে। রাসূল সা:-এর মক্কা বিজয়ের পর তিনি নিজ হাতে কাবা ঘরের মধ্যে রাখা ৩৬০টি মূর্তি ভেঙে মুসলমানদেরকে শিরকমুক্ত করলেন। এখন আমরা মুসলমানরাই আবার শিরকের মধ্যে নিমজ্জিত হলাম।
সম্মানিত পাঠক, আল কুরআনের আইনকে বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন দ্বারা যত দিন দেশ পরিচালিত হবে, তত দিন পর্যন্ত যেকোনো প্রকারের জুলুম, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, শিরক, বিদায়াত ইত্যাদি বন্ধ হবে না। আল কুরআনের আইনই ইহকালীন শান্তি এবং পরকালে কঠিন আজাব থেকে মুক্তির একমাত্র গ্যারান্টি।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • মানুষের জন্য রহমত ও শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব
  • টঙ্গীর তুরাগ তীরে জুমার নামাজে অংশ নেন লাখো মুসল্লি
  • ছাগলনাইয়ায় মজুমদার বাড়ী জামে মসজিদের উদ্যোগে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত
  • আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম জাতির খুশির দিন
  • ব্রিটেনের সরকারি নীতির ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ব্রিটিশ মুসলিমদের উপর
  • দুনিয়া-আখেরাতের মুক্তি রয়েছে পবিত্র কুরআনে
  • ইসলামে অবৈধ শারিরক সম্পর্কের শাস্তি
  • ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print