নিজাম হাজারীর এমপি পদে থাকার বৈধতার বিষয়ে রায় বৃহস্পতিবার

তারিখ : February, 27, 2018, 5:55 pm
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজামউদ্দিন হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রিটের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মণ্ডল।

পরে সত্যরঞ্জন জানান, এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো.আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চে মামলাটি কার্য তালিকায় আসার পর কয়েকদিন শুনানি হয়। মঙ্গলবার শুনানি শেষ হলে রায়ের জন্য ১ মার্চ দিন ঠিক করা হয়েছে।

এর আগে ৩০ জানুয়ারি রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সত্যরঞ্জন মণ্ডল জানিয়েছেন, বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে নিজাম হাজারীর আইনজীবী শুনানি করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন।

এরপর রিটের নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর পর তিনি বিচারপতি মো.আবু জাফর সিদ্দিকীর বেঞ্চে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানান সত্যরঞ্জন মণ্ডল।

গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ মামলার শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ।

এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চের কাছে পাঠান। পরবর্তীতে কয়েকটি একক বেঞ্চ বিব্রতবোধ করেন।

২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি’।

পরে এই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট এ রুলের শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদ থাকবে কিনা, সে বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

তবে বিচারিক আদালতের একটি নথি না আসায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২৩ আগস্ট ধার্য করা হয়। পরে কয়েক দফা পিছিয়ে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনও ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনও ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তিনি।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • ফেনীর দাগনভূঞায় গৃহবধুকে গুলি করে হত্যা
  • ফেনী জেলা যুবদল সভাপতি গাজী মানিক মুক্তি পেলেন
  • সোনাগাজীতে জলি বমিক নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ
  • বিলোনিয়া স্থল বন্ধরে ৩২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান।
  • পরশুরামে ১লা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলশোভা যাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন পাপ্পুকে দেখতে হাসপাতালে বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল
  • ফেনীর বিএনপির নেতাদের কারাগারে প্রেরন
  • পরশুরামে ছাত্রলীগ নেতার হামলায় একই পরিবারের ৫ জন গুরতর আহত।
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print