পরশুরামের বিলোনিয়ার মুক্তিযুদ্ধের স্বৃতিস্তম্ভ দির্ঘদিন ধরে অযত্ন অবহেলায়

 ১৯ মার্চ-২০১৯
ফেনীর বিলোনিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের স্বৃতিস্তম্ভ অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ওই স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এতে শহীদ হন ৩৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের সেই বীরত্বকে স্মরণ রাখতে পরশুরাম-ছাগলনাইয়া সড়কের পাশে পরশুরাম পৌর এলাকার সলিয়া গ্রামে নির্মিত হয় বিলোনিয়া যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ।

কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযতœ-অবহেলায় স্মৃতিস্তম্ভ¢টি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমর বিলোনিয়ায় স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ২০০৯ সালে ৫০ লাখ ৩৯ হাজার টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে। ২০১০ সালে বিলোনিয়াতে স্বতিস্তম্ভটি নির্মান করার লক্ষে দরপত্র আহবান করে। এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কার্যাদেশও দেয়া অমি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।

পরে কয়েকজন স্থানিয় মুক্তিযোদ্বা স্থান পরিবর্তনের জন্য মুক্তিযুদ্ব বিষয়ক মন্ত্রনালয় সহ জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত ভাবে আবেদন করলে পরে পরশুরাম পৌরসভার সলিয়া গ্রামে স্বৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।

২০১১ সালে পুনরায় নির্মান কাজ পায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স একরামুল হক। গণপূর্ত বিভাগের তদারকিতে স্বৃতিস্তম্ভটি নির্মান কাজ শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বৃতিস্তম্ভটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লতা-গুল্ম ও ঝোপ-জঙ্গলে ভরে গেছে । বখাটে, মাদক ও নেশাখোরদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্বের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্বৃতিস্তম্ভটি।

মুক্তিযুদ্ধ স্বৃতিস্তম্ভের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। সাবেক উপজেলা মৃক্তিযোদ্বা কমান্ডার হুমায়ন শাহরিয়ার বলেন, বিলোনিয়া স্বৃতিস্তম্ভটি রক্ষণাবেক্ষণ জরুরী হয়ে পড়েছে। হুমায়ন শাহরিয়ার আরো বলেন, ‘বিলোনিয়ার সম্মুখযুদ্ধের কলাকৌশল বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শেখানো হয়। গৌরবময় এ স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত স্তম্ভটি আমাদের জন্য একটি স্বৃতি বিজড়িত। তবে এটি অব্যবস্থাপনায় নষ্ট হওয়া ও নেশাখোরদের আড্ডায় পরিণত হওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানের।’
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্বৃতিস্তম্বটি যথাযথ সংরক্ষণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো রাসেলুল কাদের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন প্রস্তুতি সভায় বলেন মুক্তিযুদ্বের স্বতিস্বম্ভটি রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য তিনি উদ্যোগ গ্রহন করবেন।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরাম বিআরডিবি র বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  • পরশুরামে স্বাধীনতা দিবসে নজরুল একাডেমির পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • পরশুরামে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
  • পরশুরামের বিলোনিয়ার মুক্তিযুদ্ধের স্বৃতিস্তম্ভ দির্ঘদিন ধরে অযত্ন অবহেলায়
  • পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ধনিকুন্ডা বাজারে সরকারী জমি উদ্বার
  • পরশুরামে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন
  • পরশুরামে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মানববন্ধন
  • পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোটি টাকার সরকারী জমি উদ্বার
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print