পরশুরামে দুম্বার মাংস ভাগবাটোয়ারা করলেন ১৮জন কর্মকর্তা-কর্মচারী

পরশুরাম প্রতিনিধি :
পরশুরামে অসহায় দুস্থ্যদের জন্য বরাদ্বকৃত দুম্বার মাংস মনের মত ভাগবাটোয়ারা করলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় দরজা বন্ধ করে ১৮ জন কর্মচারী দুম্বার মাংস মনের মত করে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়ে যান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমান জানান, পরশুরামের এতিম ও অসহায় দু:স্থ্যদের জন্য মোট ৪৫ প্যাকেট দুম্বার মাংস বরাদ্ব দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪৫ প্যাকেট দুম্বার মাংস পরশুরাম পাঠানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এতিম খানায় এবং দুস্থ্যদের মাঝে সব প্যাকেট বন্টন করে দেয়ার কথা। জানা গেছে, মির্জানগর, চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার দুস্থ্য ও এতিমদের জন্য ৪০ প্যাকেট বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল। তবে পিআইও অফিস থেকে তাদেরকে ৩২ টি প্যাকেট দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন। বাকী ১৩ টি প্যাকেট দুম্বার মাংস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মচারীরা এতিম ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরন না করে নিজেরা গভীর রাত পর্যন্ত মনের মত করে ভাগবাটোয়ারা করে বাড়ীতে নিয়ে যান।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের অফিস সহকারী মো: শাহ আলম জানান, ইউএনও অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিএ নুরল হুদা তাকে ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামের একটি তালিকা দেয় সে অনুযায়ী তারা কয়েকটি প্যাকেট নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুম্বার মাংস ভাগবাটোয়ারা নিয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের অফিস সহায়ক ও কর্মচারী কল্যান সম্বনয় পরিষদের নেতা মো. জসিমের সাথে এক শিক্ষক নেতার দুম্বার মাংস ভাংবাটোয়ারা নিয়ে হাতাহাতি ও হট্টগোল বাধে। ওইসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হট্টগোলের শব্দ শুনে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, একটি কক্ষের লাইট বন্ধ করে কয়েকজন অপেক্ষা করছেন পাশ্বের কক্ষে ইউএনও অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিএ নুরল হুদা, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক চিরন্তন চাকমা, অফিস সুপার সঞ্জিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের অফিস সহকারী মো: শাহ আলম তালিকা করছেন। আরেকটি কক্ষে দা দিয়ে মাংস কাটাকাটি করছেন কয়েকজন। প্রত্যেকে আড়াই কেজি করে ভাগে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি করে মাংস ছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মেশকাতুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আসা এতিম ও অসহায় দুস্থ্যদের জন্য বরাদ্বকৃত দুম্বার মাংস কর্মচারীরা ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি জানান, এটি খুবই লজ্জাজনক এবং গুরতর অপরাধ। তার অফিস সহকারী শাহ আলম ১৮ জনের মধ্যে কয়েকটি প্যাকেট ভাগবাটোয়ারা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের অফিস সহকারী মো: শাহ আলম জানান, ১৮ জন কর্মচারী নিজেরা কিছু মাংস ভাগ করে নিয়েছেন। বাকীগুলো নিয়ম অনুযায়ী দুস্থ্যদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে।
ইউএনও অফিসের ভারপ্রাপ্ত সিএ নুরল হুদা জানান, তিনি কোন মাংস নেননি। তাদের মধ্যে হট্টগোল দেখে তিনি বাড়ীতে চলে গেছেন। এই ঘটনার সাথে পিআইও অফিসের অফিস সহকারী শাহ আলম জড়িত।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
  • পরশুরামে বাল্য বিবাহ ঠেকালো প্রশাসন
  • পরশুরামে দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে গৃহবধুর লাশ উত্তোলন
  • পরশুরামের মির্জানগর ইউপি চেয়ারম্যানের শশুরের পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ
  • পরশুরাম থানার পূর্ব পাশে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি
  • পরশুরামে মাদক সহ তিন জন আটক
  • পরশুরাম উপজেলা ভুমি অফিসের অফিস সহায়ক শাফায়েতের বিরুদ্বে এবার ঘুষ দাবির অভিযোগ
  • পরশুরামে বন্ধুর বন্ধনের উদ্যোগে চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print