পরশুরামে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপনে স্কুলের পুরাতন ভবন বিক্রির অভিযোগ!

স্টাফ রিপোর্টার:-
২০ জুন ২০২০

ফেনীর পরশুরাম উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মির্জানুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার পৌর এলাকার দক্ষিণ গুথুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন ভবন টেন্ডারে না দিয়ে গোপনে ঠিকাদারের সাথে আতাত করে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরাতন ভবনের বিক্রির টাকা উপজেলা শিক্ষা অফিস কিংবা সরকারি কোষাগারে চলতি মাসেও জমা দেননি বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জানা গেছে।
জানা গেছে ভবন নির্মানের লক্ষে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ও বিদ্যালয়ের বিক্রয় যোগ্য গাছ বিক্রি করার জন্য উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনে ৫ টি স্কুলের নাম উল্ল্যেখ থাকলেও দক্ষিন গুথুমার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম নেই । গত ১০ মার্চের নির্দেশনায় দেখা গেছে শুধুমাত্র ৫টি স্কুলের পুরাতন ভবন ও গাছ বিক্রির টেন্ডার দেয়া হয়েছে।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) মির্জানুর রহমানের বিরুদ্বে গত বছর ৫০ টি স্কুলের প্রত্যেকটির জন্য ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেঢ় লাখ টাকা বরাদ্ব দেয়া হয়েছিল । টাকা বরাদ্ব ও কাজ শুরুর আগেই তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রত্যেক স্কুল থেকে ৩০হাজার টাকা করে আদায় করেছে। ওই সময় উপজেলা আইনশৃংখলা সভায় অনন্তপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির একজন স্থানীয় ইউপি মেম্বার কাদের রাব্বানি নয়ন প্রকাশ্যে অভিযোগ দিলে মিজানকে নিয়ে উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়।

ওই বরাদ্বের কাজ করার পরও উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেব নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় অদ্যবদি পর্যন্ত ওই স্কুলের বিল মিজানুর রহমান আটকে রাখেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা সচিব সহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও অবহিত আছেন।
মিজানুর রহমানের বিরুদ্বে বেশীর ভাগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, স্কুল পরিচালনা কমিটির লোকজন একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্কুল ভিজিটে গিয়ে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে টাকা দাবি করার বিষয়টি একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন। তাছাড়াও টাকা না দিলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি, নারী শিক্ষকদের সাথে অনৈতিক আচরণ ও শোকজ করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পশ্চিম সাহেব নগরের এক প্রধান শিক্ষককের সাথে জৈনেক ব্যাক্তির জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ থাকায় ওই ব্যাক্তিকে খুশি করতে মিজানুর রহমান গত ৫/৬ বছর ধরে শোকজ সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে ওই প্রধান শিক্ষককে।

প্রতিবন্ধীদের টাকা আত্মসাৎ, মেরামত কাজে অনিয়ম, বদলি বাণিজ্য, পুরস্কারের সরঞ্জাম আত্মসাৎ, নারী শিক্ষদের সাথে অনৈতিক আচরণ সহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গত ১০ জুন উপজেলার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরামের সভা উপজেলা সমন্বয় সভা ও আইনশৃংখলা সভায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধিদের জন্য বরাদ্বকৃত টাকা আত্বাসাতের অভিযোগ তুলেছেন খোদ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার।

এর আগেও উপজেলা আইনশৃংখলা সভায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্বে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আকতার এর উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আর্তসাৎকারী, নারী শিক্ষকদের অনৈতিক আচরণ করার অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
মিজানুর রহমানের বাড়ি কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলায়। ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও একই উপজেলার হওয়াতে মিজানুর রহমানের একাধিক অনিয়মের শাস্তির ব্যাবস্থা না করে উল্টা সহযোিিগতা করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, মির্জানুর রহমান ২০১৪ সালের জুন মাসে যোগদান করেন। এর পর তিনি ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ২০১৯ সেপ্টম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন ১৭/১৮ এবং ১৯/২০ অর্থ বছরে স্কুলের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য বরাদ্ধ, বার্ষিক বরাদ্ধ, সরঞ্জাম ক্রয়ের একাধিক প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও না দিলে শিক্ষকদের বদলী, সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অপর দিকে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার মুঠোফোন বর্তমানে বর্তমানে বন্ধ । তার বিরুদ্বে আইনশৃংখলা সভায় অভিযোগ উঠায় ছুঠির আবেদন লেখে অফিসে রেখে আত্বগোপনে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন জানান, আমি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ দেয়া পর থেকে বেশি সময় হয়নি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা সমন্বয় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি সরাসরি অভিযোগ করায় অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মির্জানুর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে পরবর্তীতে সে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে প্রদোন্নতি পান। পরশুরামে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন কালিন সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। (এর পর শিক্ষকরা মিজানুর রহমানের শাস্তি ও বদলীর দাবি জানাচ্ছে)

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরাম নজরুল একাডেমির উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান সহ করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ
  • পরশুরামে অতুল মজুমদারের মিষ্টি দোকানে ওজনে কম দিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা
  • পরশুরামের সেই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা রাতের আধাঁরে চলে গেলেন
  • পরশুরাম উপজেলা বন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান করোনা আক্রান্ত
  • পরশুরামে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপনে স্কুলের পুরাতন ভবন বিক্রির অভিযোগ!
  • পরশুরাম শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ
  • পরশুরাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছেন আলাউদ্দিন নাসিম
  • পরশুরামে ইসলামী শাষনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print