পরশুরামে ব্লাষ্ট রোগে সর্বশান্ত হচ্ছে কৃষক

আবু ইউসুফ মিন্টু:-
পরশুরাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলতি বোরো মৌসুমের ধানে ব্লাষ্ট্ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাজারো কৃষক সর্বশান্ত হচ্ছে। রোগ প্রতিরোধে উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা যে কাপ, কন্টাপ, ব্লাষ্টিন, কনজা ওষুধ প্রয়োগ করতে বলেছেন তা কৃষকদের কোন কাজেই আসছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। গত ৩০ বছরের মধ্যে এই ধরনের রোগ দেখেননি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পরশুরামে ৩ হাজার ২ শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় মোট ৯ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজ করছেন। কৃষকদের অভিযোগ, তারা মাঠে না গিয়ে মোবাইলে ফোনে সমাধান দেন। তাছাড়া তাদেরকে সার দোকানে বেশী দেখা যায়। সরেজমিন মাঠে গিয়ে এবং একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ধান পাকার পর হঠাত করে পাকা ধান গাছের ঘাড়ে চিকন হয়ে পুরা শিষ মড়ে ভুষি হয়ে যাচ্ছে। রোগে আক্রান্ত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুরো জমির ধান ক্ষেত মড়ে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, অসময়ে অতি বৃষ্টি হওয়া দিনের বেলায় গরম রাতে ঠান্ডা, দীর্ঘসময় শিশির ভেজা, ঝড়ো হাওয়া ইত্যাদি কারনেই একধরনের ছত্রাকের আক্রমনের কারনে ধানে বাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধানের ক্ষতি হচ্ছে। কোন কিছুতেই কাজ না হওয়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা।
অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ধানের পাতা বাষ্ট রোগের অনুকুলে আবহাওযা ও কৃষকের করনীয় সচেতনতা মুলক একটি লিফলেট প্রচার করতে দেখা গেছে। তবে কোন ওষুধ দিয়ে কৃষকরা প্রতিকার পাচ্ছেননা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
ঔষদে কাজ হচ্ছেনা বলে স্বীকার করছেন উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা উত্তম মজুমদার। তিনি জানান, কোন ঔষদেই কাজ হচ্ছেনা।
উপজেলার কৃষক ফিরোজ আলম, আবুল খায়ের, গদানগর গ্রামের কৃষক আবু তাহের জানান, এই অজানা রোগে তারা সবাই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন।
ফিরোজ আলম জানান, তার প্রায় ৫ একর জমির ধান সম্পূর্ণ ভূষি হয়ে গেছে। এই রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশী কৃষকের। তবে যাদের ধান এখনও পাকেনি তারা তাদের ধান এখনো বাষ্ট রোগে আক্রান্ত হতে পারেনি। এখনই কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিতে পারলে এখনো বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাচার সম্ভবনা রয়েছে।
মো হানিফ জানান, যে ঔষদই প্রয়োগ করা হোকনা কেন এতে কোন কাজে লাগছেনা। তাছাড়া পাকা ধানগুলো ১০/১২ ঘন্টার মধ্যেই ভূষি হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য কৃষকদের মত তিনিও এটাকে প্রাকৃতিক গজব হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, তারা কৃষকদেরকে সচেতনতামুলক লিফলেট প্রচার করেছেন। এটা অতিবৃষ্টির কারনেই ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরামের জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর ব্যবহার অনুপোযোগী
  • মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে পিকনিক-২০১৭
  • মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের উদ্যোগে পিকনিক-২০১৭
  • কবি ও সাহিত্যিক বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ
  • পরশুরামে স্কুল কলেজে জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষন কার্যক্রমের উদ্ভোদন
  • পরশুরামে হিন্দু বৈদ্য খ্রীষ্টান ঐক্য ও পূজা উদযাপন পরিষদ সম্মেলন অনুষ্টিত
  • মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া গাড়ী ভাংচুর
  • জাতীয় ইমাম সমিতি পরশুরাম শাখার উদ্যোগে মাওলানা আবদুর রউফের স্মরণ সভা
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print