ফেনীর ৬৮ হাসপাতালের নেই ছাড়পত্র

ফেনী প্রতিনিধি ॥
রোববার, ১০ মার্চ ২০১৯,
ফেনীর ৮৩টি হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ৬৮টির নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। প্রতিষ্ঠান চালু করতে বিষয়টি বাধ্যতামূলক হলেও তোয়াক্কা করছেন না কেউ। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে জরিমানা করলেও বিধি না মেনে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ৩৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ৪৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি হাসপাতাল ও ৩৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো ছাড়পত্র নেই।

পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ অনুযায়ী যেকোনো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত হওয়ার আগেই পরিবেশ ছাড়পত্র নেয়াটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জেলায় মাত্র তিনটি হাসপাতাল ও ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে।

জেলা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তালিকা অনুযায়ী ৮৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৩৫টি হাসপাতাল। এদের মধ্যে ফেনী কনসেপ্ট হাসপাতাল, মিশন হাসপাতাল ও দাগনভূঞা ইউনিক হাসপাতালের পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে।

অন্যদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ভাইটাল রিচার্স, ফেনী ক্লিনিক, ইবনে সিনা, প্যাসিফিক, ডক্টরস পয়েন্ট, সেভরন ক্লিনিক, কমপেক্ট হেলথ কেয়ার, ডক্টরস ক্লিনিক, আল্ট্রাপ্যাথ, ছাগলনাইয়ায় নিউ মর্ডান ডিজিটাল ল্যাব, দাগনভূঞা পদ্মা ডিজিটালল্যাব ও সোনাগাজী ক্লিনিকসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রক্ত, পুঁজ, সংক্রমিত স্যালাইন সেট, রক্ত, ডায়রিয়া সংক্রামিত রোগীর কাপড়-চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ ইত্যাদি বর্জ্য হয়। এছাড়া আছে অ্যানাটমিক্যাল বর্জ্য যেমন; মানবদেহের কেটে ফেলা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, টিস্যু ও গর্ভফুল ইত্যাদি। তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের মধ্যে রয়েছে রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ, অব্যবহৃত এক্স-রে মেশিন হেড ইত্যাদি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এগুলো যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদফতর ফেনী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক ফাইজুল কবির বলেন, ছাড়পত্র পেতে প্রায় ৪২টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নানা ক্রটি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় এসব প্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না।

ফেনী জেলা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল গোফরান বাচ্চু জানান, ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো একটি এনজিও সংস্থা সকল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ছাড়পত্র খতিয়ে দেখার জন্য সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল রয়েছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে নতুন করে নিবন্ধন পেতে অনলাইনে আবেদনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৩১ জুন পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরামের কু্ঁড়েঘর ফাউন্ডেশন অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়
  • পরশুরামে প্রতিতী সমিতির নামে টাকা আত্বসাত করায় প্রতারক মিজানের বিরুদ্বে গ্রাহকদের অভিযোগ
  • ফেনীর নতুন পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান
  • পরশুরামে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৯.৮০, জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২৯ জন
  • পরশুরাম পৌর এলাকার চুরির ঘটনা থেকে রেহাই পেতে এলাকাবাসীর খোলা চিঠি
  • ফেনী-পরশুরাম সড়কে বাঁক সোজাকরনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী
  • নুসরাতকে পুড়িয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর নির্দেশ, স্বীকার করলেন অধ্যক্ষ
  • পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরুল একাডেমির শিল্পীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print