বন্ধ হয়েছে রাজবাড়ীর ১৮ সিনেমা হল

1সারা দেশের সিনেমা হলের চিত্র খুবই করুণ। সিনেমা হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে

এই ধারাবাহিক আয়োজন। আজ প্রকাশ হলো রাজবাড়ীর সিনেমা হল নিয়ে

প্রতিবেদন।

দর্শকের অভাবে লোকসান গুনতে গুনতে রাজবাড়ী জেলার ২০টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৮টিই বন্ধ হয়ে গেছে। যে দুটি চালু রয়েছে দর্শকের অভাবে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

২০টি সিনেমা হলের মধ্যে গোয়ালন্দ উপজেলায় ৩টি, কালুখালী উপজেলায় ৩টি, পাংশা উপজেলায় ৪টি, রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৫টি ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৫টি। বর্তমানে চালু আছে রাজবাড়ী শহরের বসুন্ধরা ও সাধনা সিনেমা হল। বর্তমানে এই দুই হল থেকে সরকার বছরে পাচ্ছে ১৮ শত টাকা। অথচ বছর ১৫-১৬ আগে এর পরিমাণ ছিল লক্ষাধিক টাকা। পূর্বে সিনেমা হলের দর্শকদের ব্লাকে টিকিট নিয়ে হলে ঢুকতে হতো। নতুন সিনেমা হলে প্রদর্শনী শুরু হলে প্রথম ৩-৪ দিন ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত আসন সংযোজন করতে হতো দূরদূরান্তের দর্শকদের জন্য। বর্তমানে ভারতীয় সিনেমা ও স্যাটেলাইটের বদৌলতে এবং ঘরে ঘরে টিভিতে ভারতীয় সিরিয়াল সকল দর্শককে ঘরকুনো করে ফেলেছে। সিনেমা ব্যবসায়ীরা রাজবাড়ী শহরে সরকারি জমির ওপর লিজ নিয়ে চিত্রা সিনেমা হল নির্মাণ করেন। সাবেক রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য মরহুম আক্কাছ আলী মিয়া সিনেমা ব্যবসা লাভজনক মনে করে এককভাবে গোয়ালন্দ উপজেলা কমপ্লেক্সের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে গোধূলি সিনেমা হল চালু করেন। আয় হয় প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা। এখন ভাড়া ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গোয়ালন্দ মোড়ের মোনালিসা সিনেমা হল মালিক সোলার বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেওয়ান মো. মুজিবুর রহমান জানান, তিনি ১৯৯৭ সালে সিনেমা হল চালু করেন। দর্শকের অভাবে ২০০২ সালে সিনেমা হল বন্ধ করে দেন। তার হলে অবুঝ মন সিনেমাটি প্রদর্শন করা হলে ১৭ দিনব্যাপী অবস্থান করায় এমনও দর্শক ছিল যারা ১৭ দিনই একাধারে সিনেমাটি উপভোগ করেছেন। ডিশ চ্যানেল গুলিতে উন্নতমানের সিনেমা দেখা যায়। চায়ের দোকানে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা সিনেমা ও নাটকের জন্য দর্শকের ভিড় লেগে থাকে। সিনেমা হলে নিম্নমানের লোক দর্শক হিসাবে যায়। পূর্বে শিক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা হলে সিনেমা দেখতে যেত বর্তমানে কম্পিউটার ও উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল সেট হওয়ায় এ সকল ডিভাইসে গান সিনেমা গেমস ইত্যাদি উপভোগ করা যায়। বালিয়াকান্দি গ্রামের রঘুনন্দন সিকদার জানান, ১৯৮২ সাল থেকে তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর সিনেমা হলের ম্যানেজার হিসাবে চাকরি করেছেন। সিনেমা হলগুলোতে উন্নতমানের মানসম্মত আধুনিক ব্যবস্থা ও সিনেমা হলে পরিবেশ যুগোপযোগী না হওয়ায় দর্শক হারাচ্ছে। অনেক হলের সিটে ছাই পোকার উপদ্রব রয়েছে। সিনেমা হলে নগ্ন ছবি চালানোর কারণেই দীর্ঘ এক যুগ পরে সিনেমা হলের দর্শকের ধস নামে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ২০-২৫টি সিনেমা দেখা যায়। অথচ ভারতে বাংলাদেশের সিনেমা সরাসরি দর্শকরা দেখতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশের সিনেমা মার খাচ্ছে। সিনেমার নির্মাতারা কোটি কোটি টাকা খরচ সিনেমা তৈরি করে। জেলার বিভিন্ন হলে দীর্ঘদিন যাবৎ মালিক পক্ষ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে এখন অনেকেই হল-ব্যবসা পরিবর্তন করে ফেলেছে। বেকার হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। পূর্বে সিনেমা হলে নতুন সিনেমা প্রদর্শনের পূর্বে মাইক দিয়ে প্রচারণায় মুখর থাকত শহর গ্রামসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। রং-বেরংয়ের রঙিন পোস্টারে ছেড়ে যেত বাস টার্মিনাল, চায়ের দোকান ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ। কালের বিবর্তনে কিছু ও স্বার্থান্বেষী মহলের কলকাঠিতে হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সোনালি দিন।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • রাধিকার নগ্ন ভিডিও ফাঁস!
  • যে কারণে অক্ষয়, অজয় ও কঙ্গনা অ্যাওয়ার্ড ফাংশান এড়িয়ে চলেন
  • ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন সালমান ও শাহরুখ
  • দীপিকা পাড়ুকোন ভারতীয় নন!
  • আমি শুধু অভিনয়ের জন্যই অভিনয় করি না
  • রিয়াজের মেসবাড়ির জীবন
  • বন্ধ হয়েছে রাজবাড়ীর ১৮ সিনেমা হল
  • মা হওয়ার অপেক্ষায়?
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print