‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’

অনলাইন ডেস্ক=pho-11

পাপমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনা নিয়ে ২০ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করেছেন আজ বুধবার। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক্, লা শারিকা লাকা।’ অর্থাৎ—‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এই ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে আরাফাতের ময়দান।

আজ সূর্যোদয়ের পর হজযাত্রীরা মিনা থেকে ট্রেনে, বাসে বা হেঁটে রওনা হয়েছেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে। হজের তিন ফরজের মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। হজযাত্রীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ।

হজ পালন করতে এসে যাঁরা অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। কারণ, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ।

পবিত্র হজ পালন করতে গত সোমবার লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান মিনায় পৌঁছান। গতকাল মঙ্গলবার তাঁরা মিনায় অবস্থান করেন। তাঁরা নিজ নিজ তাঁবুতেই নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেন। মিনা থেকে আজ তাঁরা আরাফাতে পৌঁছেছেন। ‘হজ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা করা’। ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের একটি হজ। বাংলাদেশসহ ১৫০ টির বেশি দেশ থেকে এবার প্রায় ২০ লাখ মানুষ হজ পালন করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি।

সৌদি পাসপোর্ট বিভাগের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সোলায়মান বিন আবদুল আজিজ ইয়াহা বলেন, সোমবার পর্যন্ত ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ২০৬ জন হজযাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন। সৌদি আরব ও এর আশপাশের স্থানীয় হজযাত্রীদের হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

আরাফাহ ও আরাফাত—এই দুটি শব্দই আরবিতে প্রচলিত। দৈর্ঘ্যে দুই মাইল, প্রস্থেও দুই মাইল এই বিরাট সমতল ময়দানের নাম আরাফাত। ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত। এই আরাফাতে আছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। জাবাল মানে পাহাড়। এই পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। একে কেউ কেউ দোয়ার পাহাড়ও বলেন। পিলারের কাছে যাওয়ার জন্য পাহাড়ের গায়ে সিঁড়ি করা আছে।

আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন হাজিরা। তাঁরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা মাঠে। শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।

মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ছেঁটে বা মুণ্ডন করে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবা শরিফের সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় যাবেন। মিনায় যত দিন থাকবেন, তত দিন তিনটি (বড়, মধ্যম, ছোট) শয়তানকে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন।
জামারায় শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের পর হাজিদের পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিতে হয়। তাঁরা কাল কোরবানি দেবেন। অধিকাংশ হাজি নিজে বা বিশ্বস্ত লোক দিয়ে মুস্তাহালাকায় (পশুর হাট ও জবাই করার স্থান) গিয়ে কোরবানি দেন। কেউ কেউ ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে (আইডিবি) ৪৭৫ রিয়াল জমা দিয়ে কোরবানি দেন।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • ইতিহাসে হিলারিই প্রথম
  • ফুটন্ত তেলে বসে ধ্যান করেন সন্ন্যাসী!
  • হ্যাকারদের টার্গেট মার্ক জাকারবার্গের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা
  • ‘ঈদ ভিসা ক্যাম্প’ নামে ভিসার আবেদন পক্রিয়া সহজ করেছে ভারতীয় হাইকমিশন
  • হাঙ্গরের কামড়ে পা হারানো যুবকের মৃত্যু
  • মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে ওবামাকে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা
  • ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ করতে চায় বিজিবি
  • প্যারিসে আজ শুরু হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print