সম্রাটের উপর কিছুটা নমনীয় হচ্ছেন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১০ অক্টোবর ২০১৯

সদ্য বহিস্কৃত ঢাকার যুবলীগের সম্রাটের শারীরিক অবস্থার বিবেচনায় রিয়ে এবং কি দলের দুঃসময়ের অবদান, কর্মীবান্ধব নেতা হওয়ার সুনাম অর্জন, ক্যাসিনো ব্যবসা ছাড়াও অন্যকোন দলীয় শৃংখলা বর্হিভুত কর্মকান্ডের গুরতর কোন অভিযোগ না পাওয়ায়, দলের সর্বোচ্চ মহলের   বরফ গলার আভাস দেখা যাচ্ছে বলে সম্রাটের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।  অপরদিকে গ্রেফতার পর থেকে হঠাৎ করে   সম্রাটের পতি দলের উচ্চ পর্যায়ের ক্ষোভের আগুন শীতল হতে সহানুভুতির জন্ম নিয়েছে।   সম্রাট বিহীন ঢাকায় সম্রাটের অভাব অনুভব করতে লাগলেন দলের বিভিন্ন মহলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা, সম্রাটের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে মিছিল, দোয়া প্রার্থনা সহ বিভিন্ন ভাল দিক গুলি তুলে ধরছেন দলীয় প্রধানের কাছে।

 ক্যাসিনোর বিরুদ্বে অভিযানে   সম্রাটের সহযোগীদের নগদ টাকা সহ বিলাস বহুল গাড়ী বাড়ী সহ কোটি কোটি টাকা উদ্বার করলেও সম্রাটের ক্ষেত্রে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয় পুলিশ সহ বিভিন্ন  আইনশৃংখলা বাহীনির সদস্যদের তদন্তে সম্রাটের গ্রামের বাড়ীতেও তেমন কোন সম্পদের হদিস পায়নি, এছাড়াও তার জন্মস্থান পরশুরামে সম্রাটের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। ক্যাসিনো ব্যবসায় যে অবৈধ টাকা উপার্জন করেছে তা দলের জন্য খরচ করেছে বলে তার সহযোগিরা জানিয়েছেন।

অপরদিকে সম্রাটকে গ্রেফতারের পর ঢাকার রাজপথে যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন, সে সুযোগটা বিরোধী দল কাজে লাগানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।    

 সম্রাট এর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান সম্রাটের দুই বার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে, তাছাড়া তার একটি কৃত্রিম ব্লাব সংযোজন করা আছে। আগে থেকে শারীরিক ভাবে অনেকটা জটিল অসুস্থ্য ছিলেন। জটিল অসুস্থতার বিষয়টি দলীয় প্রধানের নজরে এসেছে।

ক্যাসিনো কিং সম্রাটের পতি দলীয় প্রধানের নমনীয়তার লক্ষন দেখা গেছে গত বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে, সম্রাটের প্রসঙ্গ না আসলেও প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো এবং জুয়া খেলার জন্য ভাসান চরে জায়গা করে দিবেন বলে আভাস দিয়েছেন।  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন  লাইসেন্সের মাধ্যমে তিনি ক্যাসিনো ব্যবসার জন্য ব্যবস্থা করে দিবেন।

সম্রাটের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৯০ সালে। সেই সময়কার ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট। তখন সারাদেশে এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলছিল। সম্রাট রমনা অঞ্চলে আন্দোলনের সংগঠকের দায়িত্বে ছিলেন। এ কারণে তখন নির্যাতনসহ জেলও খাটতে হয় তাকে। এর পর থেকেই ‘সম্রাট’ খ্যাতি পান সাহসী সম্রাট হিসেবে।

যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরীর জন্ম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে। তার বাবা ফয়েজ আহমেদ ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।  বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় বড় হন সম্রাট।

সম্রাট ১৯৯১ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করা অবস্থায় এরশাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। সে আমলে সম্রাটের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ১/১১-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সময় সম্রাট যুবলীগের প্রথমসারির নেতা ছিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসে। এর পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হতে থাকেন সম্রাট। দলীয়ভাবে পদোন্নতিও হয় তার। আওয়ামী লীগের বড় বড় অনুষ্ঠানে পরিচিত মুখ হিসেবে উপস্থিত থাকতেন।

যুবলীগের সবশেষ কাউন্সিলে তিনি যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হন। আগের কমিটিতে তিনি ছিলেন একই ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক।

 মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা এলকায়  একক আধিপত্য তৈরি করেন সম্রাট।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময়  রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করে ১৯৯৩/৯৪ সালে ঢাকার ৫৩ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক 

মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে  শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।  ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয়মাসের কারাদন্ডাদেশ দেয়। বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী  সম্রাট কে কারাগারে পাঠানো হলে হঠাৎ ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

 গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সম্রাটকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন কারারক্ষী সুবেদার মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. মহসিন আহমেদ বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে মঙ্গলবার তার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত ছিল। তাই তাকে আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 এলাকায় লোকমারফত দলীয় নেতাকর্মী , হতদরিদ্র মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত ছিল স¤্রাটের।

স¤্রাট্রে বিরুদ্বে ক্যাসিনো, কিংবা জুয়া বাদ দিলে আলোচিত কোন হত্যা কিংবা দলীয় কর্মী হত্যা, দাঙ্গা হাঙ্গামা, অপরহণ, নির্যাতনের তেমন কোন সুনিদিষ্ট গুরতর অভিযোগ এখন পর্যন্ত পত্রিকার পাতায় উঠে আসেনি। মহাখালীর বাসায় অভিযান চালানোর সময় সম্রাটের স্ত্রী শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবৈধ টাকা (সম্রাট) সংসারে খরচ করত না। সে ফ্যামিলি মেম্বারদের অবৈধ টাকা খাওয়াতো না। ওই টাকায় দল পালতো।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে ইয়াছমিন আকতারের যোগদান
  • সম্রাটের উপর কিছুটা নমনীয় হচ্ছেন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল
  • সম্রাটের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ছোট বোন ফারহানা চৌধুরী শিরিন
  • পরশুরাম উপজেলা আ’লীগে কামাল-সভাপতি, সাজেল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
  • নাসিম ভাই এখনো আমাদের অভিভাবক
  • নাসিম ভাই এখনো আমাদের অভিভাবক
  • পরশুরাম সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে যাবার সময় তিন নাইজেরিয়ান আটক
  • অফিস সহায়ক সাফায়েত’র বিরুদ্বে পরশুরামের ৩য়, চতুর্থ শ্রেনীর ৪৮জন কর্মচারীর লিখিত অভিযোগ
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print