হৃদ্‌রোগে আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা

বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে হৃদ্‌রোগ, বক্ষব্যাধি, ডায়াবেটিস ও ক্যানসার—এসব অসংক্রামক ব্যাধি বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশে ৫৯ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে অসংক্রামক ব্যাধির কারণে। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগে মৃত্যু হচ্ছে ১৭ শতাংশের।
সমস্যা যখন এসেই পড়েছে, তখন তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হৃদ্‌রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা জটিল এবং সেগুলো ব্যয়বহুল। সে জন্য এই রোগ যেন না হয়, সেদিকেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মনোযোগ থাকা দরকার। সেই পুরোনো কথাটাই নতুন করে বারবার বলতে হবে, রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো।
তবে সতর্কতা অবলম্বন করার পরও যদি কেউ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে এখন মানসম্পন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।
ঝুঁকি: উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, মানসিক চাপ থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকে। ধূমপান বা পান-জর্দার অভ্যাস বা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাসেও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একদিকে কায়িক পরিশ্রম না করা, অন্যদিকে অতিরিক্ত শারীরিক ওজন যেকোনো ব্যক্তিকে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।


সব শ্রেণির রোগ:
একসময় মনে করা হতো যে হৃদ্‌রোগ ধনীদের রোগ। বাস্তবতা অন্য কথা বলে। জন্মগত হৃদ্‌রোগ ধনী ও দরিদ্র উভয় শ্রেণির মানুষেরই দেখা দিতে পারে। স্কিমিক হার্ট ডিজিজ (ধীরে ধীরে চর্বি জমাই মূল কারণ) সাধারণত ধনিক শ্রেণিতে বেশি দেখা দেয়, তবে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ এর ঝুঁকির বাইরে নয়। অন্যদিকে বাতজনিত হৃদ্‌রোগে দরিদ্র শ্রেণির মানুষই বেশি ভোগে।
সতর্কতা জরুরি: হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ হবে এর ঝুঁকিগুলো জানা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলা। পরিমিত আহারে অভ্যস্ত হতে হবে এবং দেখতে হবে খাবারে যেন চর্বি ও লবণ কম থাকে। শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শাক-সবজি ও ফলমূল বেশি করে খেতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
করণীয়: সরকারের কাজ হবে হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা তৈরি করা। পাশাপাশি হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এমন খাদ্য বা অভ্যাস থেকে জনসাধারণকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া। অন্যদিকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত মানুষ যেন সুচিকিৎসা পায়, তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ ও দক্ষ জনবল তৈরি করাও সরকারের দায়িত্ব।
তবে সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়। অনেককে তাই পেশাগত দায়িত্বের বাইরে সমাজসেবামূলক কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। পেশাজীবী, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যমকর্মী সবাইকে প্রতিরোধ কার্যক্রমে শামিল হতে হবে।

এক দিনে ফল পাওয়া যাবে না, এক দিনে সব মানুষ সচেতন হবে না, এক দিনে হৃদ্‌রোগের প্রাদুর্ভাব কমে আসবে না। দীর্ঘ মেয়াদে লেগে থেকে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সুফল অবশ্যই পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে বাতজ্বর পরিস্থিতিকে উল্লেখ করা যায়। বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের ফলে গত ২০ বছরে বাতজ্বরজনিত হৃদ্‌রোগ প্রতি হাজারে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • নার্সদের আন্দোলনকালে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ৫
  • হৃদ্‌রোগে আতঙ্ক নয়, দরকার সচেতনতা
  • সুস্থ থাকতে ও যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি
  • আপনার গর্ভের শিশুটির ক্ষতি হতে পারে যে ৭টি কারণে
  • খালি পেটে রসুন খওয়ার উপকারিতা
  • খেজুরে রয়েছে রোগমুক্তির নানা উপকরণ
  • জেনে নিন খাদ্যতালিকায় বাঁধাকপি রাখার সুফলগুলো
  • কোকাকোলা শরীরের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর !!!
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print