২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-হারিছের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
১০ অক্টোবর ২০১৮,
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২১ আগস্ট চালানো গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এই রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো। শেষ হলো দীর্ঘ অপেক্ষারও।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। এতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী সে সময়ের মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন মারা যান। আহত হন কয়েক শ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে তাঁর কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। শুরু থেকেই নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞের তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে নানা চেষ্টা করা হয়। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। বেরিয়ে আসে অনেক অজানা তথ্য। ২০০৮ সালের জুনে বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তাঁর ভাই তাজউদ্দীন, জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ-সংক্রান্ত মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাঁরা জোট সরকারের আমলে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ও র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। আহত ব্যক্তিরাসহ নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বিচারের অপেক্ষায় আছেন।
কারাগারে থাকা ৩১ জন
১. সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর
২. সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু
৩. মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী
৪. এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম
৫. জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল
৬. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া
৭. মাওলানা শেখ আবদুস সালাম
৮. মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট
৯. আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম
১০. মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু উমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব
১১. মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির
১২. মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ
১৩. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে ওভি
১৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর
১৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল
১৬. মো. জাহাঙ্গীর আলম
১৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের
১৮. হোসাইন আহমেদ তামিম
১৯. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ
২০. আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক
২১. মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ
২২. মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন
২৩. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও আবু বক ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার
২৪. লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক
২৫. সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা
২৬. সাবেক আইজিপি শহুদুল হক
২৭. সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী
২৮. তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন
২৯. সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান
৩০. এএসপি আবদুর রশীদ
৩১. সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম

ফাঁসি কার্যকর
১. জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ
২. জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান
৩. শহিদুল আলম বিপুল

পলাতক ১৮
১. তারেক রহমান
২. হারিছ চৌধুরী
৩. মাওলানা মো. তাজউদ্দীন
৪. মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন
৫. আনিসুল মোরসালিম ওরফে মোরসালিন
৬. মো. খলিল
৭. জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর
৮. মো. ইকবাল
৯. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জোবায়ের,
১০. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ
১১. মো. হানিফ,
১২. মুফতি আবদুল হাই,
১৩. রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু
১৪. লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার
১৫. মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন
১৬. ডিআইজি খান সাঈদ হাসান (সাবেক ডিসি পূর্ব)
১৭. পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান খান
১৮. মুফতি শফিকুর রহমান

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • বিএমডব্লিউ গাড়ি পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বাবর-পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেক-হারিছের যাবজ্জীবন
  • সকালে মৃত্যু, বিকালে গেল মুক্তির আদেশ,১৩ বছর জেল খাটার পর প্রমাণিত হলো তিনি নির্দোষ
  • নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে নতুন চিন্তা ক্ষমতাসীনদের
  • তফসিলের আগেই খালেদার মুক্তি চায় বিএনপি
  • বি. চৌধুরী-ড. কামালকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে বিএনপি
  • ১০ জেলায় নতুন ডিসি
  • ২১ আগস্ট মামলার রায় ১০ অক্টোবর
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print