২১ আগস্ট মামলার রায় ১০ অক্টোবর

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮,
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলায়রায় আগামী ১০ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর এ মামলার বিচারের শেষ দিকে আমরা এসেছি। এ মামলার বিচারে কোনা ফাঁক রাখার চেষ্টা করিনি। কখনো কারও অধিকারবঞ্চিত করিনি। বিচারকাজ আজ শেষ হচ্ছে। আমাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।’

এর আগে আজ বেলা ১টা ৫২ মিনিটে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এ মামলায় জামিনে থাকা তিন আইজিপিসহ আট আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোরর আদেশ দেন আদালত।

পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এ মামলার বিচারকাজ চলছে।

রায় ঘোষণার দিন ঠিক হওয়ার পর সরকারি কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শেষ করে দেওয়ার জন্য এ হামলা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাঁরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এ এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই। সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না। সাজা দেওয়ার মতো কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই।’

আদালত সূত্র বলছে, এ মামলায় ১১৯ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ঠিক করলেন।

আদালত বলেন, ‘এত দিন ধরে এখানে বিচারকাজ পরিচালনা করে এ আদালত বড় আপন হয়ে গেছে। এ আদালতের জানালা, ফ্যান—সবকিছু বড় চেনা। আর এক দিন এখানে আসতে হবে। সেদিন আমি রায় ঘোষণা করব। আসামিরাও বিচারকাজে সহায়তা করেছেন।’

আসামিদের জামিন বাতিলের ব্যাপারে আদালত বলেন, ‘আসামিরা জামিনে থাকলে বিচারে সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য আসামিদের জামিন বাতিল করা হলো।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়ংকর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। গুরুতর আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ-সংক্রান্ত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দুটির বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এসে এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। জামিনে আটজন এবং কারাগারে রয়েছেন ২৩ জন।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী
  • ধর্ষণের বিচারে নতুন আইন চান ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার
  • ‘প্রেমিকের সঙ্গে হোটেলে স্কুলছাত্রী, যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের পর অতিরিক্ত যৌনাচারে রক্তক্ষরণে মৃত্যু’
  • ২৩ এপ্রিল থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ
  • নারীকে জোর করে জড়িয়ে ধরলেন উপজেলা চেয়ারম্যান
  • ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন
  • চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য , অভিযোগ-উত্তেজনা
  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নুরুল ভিপি, রাব্বানী জিএস
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print