পরশুরামে ভাতাভোগী মহিলাদের গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্র নিতে ২শ থেকে ৫শ টাকা লাগে !

পরশুরাম প্রতিনিধি :

তারিখ : নভেম্বর, ২৫, ২০১৯


বর্তমান সরকার মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয় দরিদ্র গর্ভবর্তী মহিলাদের মাঝে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান করে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ভাতা প্রদান করে যাচ্ছে। পরশুরামে গর্ভবতী মহিলাদের ভাতা পাওয়ার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী ও ব্যাংক কর্মচারীদের দ্বারা হয়রানী স্বিকার হচ্ছে বলে একাধিক ভাতাভোগী দরিদ্র গর্ভবতী মহিলা অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার কাছ থেকে গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্র নিতে ২শ থেকে ৫শ টাকা করে দিতে হচ্ছে বলে ভোক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও ব্যাংক হিসাব খুলতে আরো দুইশ টাকা দিতে হচ্ছে বলে একাধিক ভোক্তভোগী অভিযোগ দিয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায় গত অর্থবছরে পরশুরামে প্রতিটি ইউনিয়নের ৮০ জন করে তিনটি ইউনিয়নের ২৪০জনকে ভাতা দেয়া হয়েছে।

জানা যায় প্রত্যেক ভাতা ভোগী মাসে ৮০০ টাকা করে ৬ মাস পর পর পরশুরাম সোনালী ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা সংগ্রহ করে থাকেন।

চিথলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় এক নারী অভিযোগ করেছেন সে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ভাতা প্রাপ্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার কাছ থেকে ৩০০টাকা দিয়ে গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্র সংগ্রহ করেছেন। পরবর্তীতে পরশুরাম উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আরো দুইশ টাকা জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার পর সে জানতে পারে তার বয়স বেশী হওযা গর্ভবতী ভাতা পাবেন না। তিনি অভিযোগ করেন চিথলিয়া পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার কাছে তিনি নিয়মিত ভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে থাকেন, অথচ ভাতার জন্য আবেদন করতে গেলে গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাকে টাকা দিতে হয়েছে।
এ বিষয় চিথলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা শিরিন আখতার গর্ভবতী হওয়ার প্রমানপত্রের জন্য ৩০০ টাকা করে আদায় করার কথা স্বীকার করেছেন। শিরিন আখতার জানান, বিষয়টি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাও জানেন তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলে সনদের জন্য টাকা নেয়া বন্ধ করে দিবেন বলে জানান।
জানা যায় পরশুরাম পৌর এলাকা সহ মির্জানগর,চিথলিয়া,বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকারা একই নিয়মে গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্রের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করে যাচ্ছেন।

পরশুরাম উপজেলা পরিবার কল্যন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নেই । সনদ দিতে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয় প্রমান হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরশুরাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী জানান পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার সনদ নিতে ভাতাভোগীদেরকে হয়রানীর একাধিক অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সনদ ছাড়া আবেদন জমা নেয়া হবে না বলে সিদ্বান্ত গৃহীত হয়েছে।

ভাতাভোগী হওয়ার শর্ত ও যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক এর ডাক্তারি সনদ (গর্ভধারনের প্রমান পত্র) জমা দিতে হবে।

জানা যায় নীতিমালা অনুযায়ী ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্য প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভধারণকালে কেবল বসত বাড়ী রয়েছে কিংবা অন্যের জায়গা বাস করে নিজের বা পরিবারের কোন কৃষি জমি নেই, এবং মৎস্য চাষের জন্য কোন পুকুর নেই এবং কি দরিদ্র প্রতিবন্ধি গর্ভবর্তী মহিলারা মাতৃত্বকাল ভাতা পাবেন। তবে একাধিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে স্বাবলম্ভীরাও দরিদ্র মায়েদের জন্য বরাদ্ধকৃত মাতৃত্বকালীন ভাতা নিচ্ছেন।

Share and Enjoy

  • Facebook
  • Twitter
  • Delicious
  • LinkedIn
  • StumbleUpon
  • Add to favorites
  • Email
  • RSS





Related News

  • পরশুরাম উপজেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান
  • পরশুরামে ভাতাভোগী মহিলাদের গর্ভবর্তী হওয়ার প্রমান পত্র নিতে ২শ থেকে ৫শ টাকা লাগে !
  • পরশুরামে আওয়ামীলীগ নেতার হাতে মার খেয়ে অপমানে কৃষকের আত্বহত্যা
  • পরশুরামে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস পালন
  • পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে ইয়াছমিন আকতারের যোগদান
  • সম্রাটের উপর কিছুটা নমনীয় হচ্ছেন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল
  • সম্রাটের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ছোট বোন ফারহানা চৌধুরী শিরিন
  • পরশুরাম উপজেলা আ’লীগে কামাল-সভাপতি, সাজেল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
    Email
    Print